শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

মানবিক মর্যাদা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ‘ফেলানী এভিনিউ’ নামকরণ: ডিএনসিসি প্রশাসক


দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে নিজেদের সম্মান ও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখার প্রতীক এবং সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেই ফেলানীর নামে সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। মহান বিজয় দিবসে গুলশানে ‘ফেলানী এভিনিউ’-এর নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ 

মানবিক মর্যাদা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ‘ফেলানী এভিনিউ’ নামকরণ: ডিএনসিসি প্রশাসক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে ‘ফেলানী এভিনিউ’-এর নামফলক উন্মোচন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ফেলানীর নামে এই সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে দেশ হিসেবে নিজেদের সম্মান, মানবিক মর্যাদা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে।

তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশ মানবিক মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখেই কথা বলবে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সেই মানবিক মূল্যবোধই শিখিয়েছে।” এজাজ আরও বলেন, ফেলানীর স্মৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশ কখনো আপস করবে না।গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কটি ২০১১ সালে সীমান্তে ভারতের বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মরণে নামকরণ করা হয়। সীমান্ত হত্যার নির্মম বাস্তবতা স্মরণে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সীমান্ত হত্যা বন্ধ দেখতে চায়। তিনি বলেন, “ফেলানী কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছিল- এই নিষ্ঠুর ঘটনা যেন আমরা ভুলে না যাই, সেজন্যই তার নামে এই সড়কের নামকরণ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিবেকের কাছে বারবার তুলে ধরা হচ্ছে যে, সীমান্ত হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ এখনো বাংলাদেশের সীমান্তে ঘটছে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, ফেলানী হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জে. মঈন উদ্দীন, ডিএনসিসি সচিব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস এম শফিকুর রহমানসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘ফেলানী এভিনিউ’ শুধু একটি সড়কের নাম নয়- এটি সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবিক মর্যাদার দাবি এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের স্মারক।