শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও এমপি প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নীতিমালা–২০২৫ জারি


নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদার ও সহিংসতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স এবং রিটেইনার নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১৪ অপরাহ্ণ 

রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও এমপি প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নীতিমালা–২০২৫ জারি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫ জারি করেছে সরকার। সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এ নীতিমালায় স্বাক্ষর করেন।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার এ নীতিমালা প্রণয়ন ও জারি করেছে। এর আওতায় একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা এমপি পদপ্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ করা যাবে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে রিটেইনারের দায়িত্বও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে।

লাইসেন্সপ্রাপ্তির যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- আবেদনকারীকে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে হবে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান অস্ত্র লাইসেন্স নীতিমালা ও বিধান অনুসরণ করাও বাধ্যতামূলক। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আয়কর প্রদান সংক্রান্ত শর্ত শিথিলযোগ্য রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় লাইসেন্সের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে নির্বাচনের ফল ঘোষণার তারিখ থেকে পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় শেষে লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। তবে অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। মেয়াদ শেষ বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কেউ আগ্নেয়াস্ত্র দখলে রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নীতিমালায় সতর্ক করা হয়েছে।

রিটেইনার নিয়োগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কেবল প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেই রিটেইনার নিয়োগ অনুমোদনযোগ্য হবে। রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কোনো অবস্থাতেই রিটেইনার নিয়োগ বা অনুমোদন দেওয়া যাবে না। এছাড়া কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলেও আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ে অসমর্থ বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রধারী এবং অস্ত্র পরিচালনায় সক্ষম এমন ব্যক্তিকে রিটেইনার হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। তবে এ নিয়োগ অবশ্যই লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ নীতিমালা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনবে এবং অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।