শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

গভীর শোক জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ফোন জাতিসংঘ মহাসচিবের


সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি লজিস্টিক বেসে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূসকে ফোন করে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।

১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:২৮ অপরাহ্ণ 

গভীর শোক জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ফোন জাতিসংঘ মহাসচিবের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সুদানে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূসকে ফোন করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেলিফোনে আলাপকালে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “আমি গভীর গভীর শোক প্রকাশ করতে ফোন করেছি। আমি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত।” তিনি এ হামলার ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানান, যেন নিহত শান্তিরক্ষীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর কাছে তাঁর সমবেদনা পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূস এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আহত শান্তিরক্ষীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জাতিসংঘের সর্বাত্মক সহায়তা কামনা করেন।ফোনালাপে জাতিসংঘ মহাসচিব জানান, আহত শান্তিরক্ষীদের প্রাথমিকভাবে সুদানের একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের উন্নত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপদভাবে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নজর দেওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান প্রফেসর ইউনূস।এ সময় দুই নেতা জাতিসংঘ মহাসচিবের গত রমজান মাসে বাংলাদেশ সফরের কথাও স্মরণ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা গুতেরেসকে আশ্বস্ত করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবে।

উল্লেখ্য, শনিবার স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে ড্রোন হামলা চালায় দেশটির একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী। এতে সেখানে দায়িত্বরত ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আটজন আহত হন।আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে।

শহীদ শান্তিরক্ষীরা হলেন-

কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, এএসসি (নাটোর)

সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, বীর (কুড়িগ্রাম)

সৈনিক শামীম রেজা, বীর (রাজবাড়ি)

সৈনিক শান্ত মন্ডল, বীর (কুড়িগ্রাম)

মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ)

লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)

আহত শান্তিরক্ষীরা হলেন- 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, পিএসসি, অর্ডন্যান্স (কুষ্টিয়া)

সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, বীর (দিনাজপুর)

কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, সিগনালস (ঢাকা)

ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, ইএমই (বরগুনা)

সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, বীর (কুড়িগ্রাম)

সৈনিক মোসা উম্মে হানি আক্তার, ইঞ্জি. (রংপুর)

সৈনিক চুমকি আক্তার, অর্ডন্যান্স (মানিকগঞ্জ)

সৈনিক মো. মানাজির আহসান, বীর (নোয়াখালী)

এই নৃশংস হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি সেনাদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আবারও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।