সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের ৫৪তম শাহাদতবার্ষিকী আজ


আজ ১০ ডিসেম্বর, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানি ও সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন মো. রুহুল আমিনের ৫৪তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে খুলনার রূপসা নদীর তীরে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সমুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ 

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের ৫৪তম শাহাদতবার্ষিকী আজ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আজ ১০ ডিসেম্বর। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানি ও সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিনের ৫৪তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে খুলনার রূপসা নদীর তীরে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে তিনি বীরোচিতভাবে শহীদ হন।

১৯৩৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর তৎকালীন বেগমগঞ্জ (বর্তমান সোনাইমুড়ি) উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের বাঘপাঁচরা গ্রামে (বর্তমানে রুহুল আমিন নগর) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রুহুল আমিন। বাবা আজহার পাটোয়ারী ও মা জোলেখা খাতুন। তিনি ১৯৫০ সালে এসএসসি পাস করে ঢাকায় এক পত্রিকা অফিসে চাকরি শুরু করেন। পরে যোগ দেন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে নাবিক হিসেবে। মেধা ও দক্ষতার কারণে তিনি জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার পদে উন্নীত হন।

১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে তাকে করাচিতে বদলি করা হয় কিন্তু তিনি যাননি। এসময় পাঁচ সন্তান রেখে তার স্ত্রী মারা যান। এরপরই তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।প্রথমে নান্দিয়াপাড়ায় লুৎফুর রহমানের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন। পরে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নির্দেশে নৌবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে ভারতে যাওয়ার নির্দেশ পান। ২ নম্বর সেক্টরে যোগ দিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহু স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে আগরতলায় নৌবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমবেত হয়ে কলকাতার নৌ-সেক্টরে যোগ দেন।ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া দুটি টাগবোট গানবোটে রূপান্তর করা হলে একটির নাম রাখা হয় ‘পদ্মা’ এবং অন্যটি ‘পলাশ’। রুহুল আমিন ছিলেন পলাশের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার (আর্টিফিসার)।

৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হওয়ার পর মোংলা ও খুলনার নৌপথে যুদ্ধ তীব্রতর হয়। এক পর্যায়ে কৌশলগত কারণে হিরণ পয়েন্টে রণতরি ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানতে রাজি হননি রুহুল আমিন। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন।এসময় শত্রুবাহিনীর বিমান হামলায় ‘পলাশ’-এর ইঞ্জিনরুমে গোলা পড়ে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণে তার ডান হাত উড়ে যায়। তিনি রূপসা নদীতে ঝাঁপ দিলেও রাজাকাররা তাকে ধরে ফেলে। পরে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয় এই বীর যোদ্ধাকে।স্বাধীনতার এক মাস পর জানা যায়, রুহুল আমিন খুলনার হিরণ পয়েন্টে বিমান হামলায় শহীদ হন। তার লাশ আর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, তাকে খালিশপুরেই দাফন করা হয়।মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেওয়া হয় বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক সম্মাননা।