শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের


আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে শান্তিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক করে তুলতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও প্রস্তুতির সঙ্গে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ত্যাগ, নিষ্ঠা ও সংকটকালে জনগণের পাশে থাকার মনোভাব দেশের জন্য দৃষ্টান্ত।

৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১১ অপরাহ্ণ 

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সফল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি)-২০২৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও জাতি গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনারা যে ত্যাগ ও নিষ্ঠা দেখিয়েছেন, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মহামারির সময় সশস্ত্র বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, “বিশ্বশান্তি রক্ষায় আপনাদের অবদান দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা আরও উঁচু করেছে।”

ঐতিহাসিক নির্বাচন - গণভোটে দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান

আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আপনাদের ভূমিকা শুধু শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করবে না, বরং জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে যে জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে উৎসবমুখরভাবে অংশ নিয়েছিল।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী সেই বিশ্বাস নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
“এটি বিজয়ের মাস। আমরা স্মরণ করি সেই বীরদের, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন।”

একইসঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
“জুলাই অভ্যুত্থান সম্ভব করেছিলেন যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন -তাদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা চিরন্তন।”

খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনা

অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
“আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।”

কোর্স সম্পন্নকারী অফিসারদের অভিনন্দন

এনডিসি ও এএফডব্লিউসি কোর্স সম্পন্নকারী অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“এই অর্জন আপনাদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এখন আপনারা জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ ও কৌশল প্রণয়নে উচ্চতর দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করছে, যারা ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, এশিয়ায় অর্থনৈতিক কেন্দ্রিকতা স্থানান্তর হচ্ছে এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য অসাধারণ সুযোগ তৈরি করছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাসহ সরকারি ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।