এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:১৮ অপরাহ্ণ
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক ও টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকদের পরীক্ষা না নেওয়ার ঘোষণাকে ‘সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। সোমবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সরকার তার অবস্থান একেবারে দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ না বাড়াতে পরীক্ষায় কোনো আপোস হবে না জানিয়ে তিনি শিক্ষকদের পরীক্ষা নিতে অনুরোধ জানান। তাঁর বক্তব্য, “পরীক্ষা আপনাদের নিতে হবে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানসিক চাপ লাঘব হবে।”
অন্যায্য দাবি: নবম গ্রেডে উন্নীতকরণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
শিক্ষকদের নবম গ্রেড দাবি প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবরার বলেন, “এটা অন্যায় ও অন্যায্য দাবি। চাকরি গ্রহণের সময় তারা জানতেন যে তাদের গ্রেড হবে দশম। এখন হঠাৎ নবম গ্রেড দাবি করা চাকরির শর্তের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান, নবম গ্রেড সাধারণত বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তা পান। তাই এই দাবি শুধু শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই এককভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। এটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের বিষয়।
শিক্ষার্থীদের ‘হাতিয়ার’ বানানো অনৈতিক
উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, শিক্ষকরা আন্দোলনের চাপ সৃষ্টির জন্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত অনৈতিক। তিনি বলেন, “যখন পরীক্ষা চলছে, সেই সময়ে দাবি উত্থাপনই অযৌক্তিক। শিক্ষার্থীদের দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা শিক্ষক হিসেবে চরম অনৈতিক কাজ।”
সরকারের সতর্কবার্তা
উপদেষ্টা স্পষ্ট জানান, “আমরা তাদের অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করছি। আগামীকাল থেকেই পরীক্ষায় ফিরতে হবে। অন্যথায় সরকারি কর্মচারী হিসেবে বিধি লঙ্ঘনের দায়ে যে শাস্তি রয়েছে, তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, এখন তা-ই দেখার বিষয়।