এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
২৫ নভেম্বর ২০২৫, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
সাম্প্রতিক কয়েক দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; বরং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। গত শুক্রবার ও শনিবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় তারা এ মতামত দেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সরকারের করণীয় সম্পর্কে লিখিত পরামর্শ দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা হাত গুটিয়ে রাখতে চাই না, আবার অবৈজ্ঞানিক কোনো পদক্ষেপও নিতে চাই না। আপনারা দ্রুত পরামর্শ দিন; সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও জানান, ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ কমিটি ও এক বা একাধিক টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের লিখিত পরামর্শ পাওয়া মাত্রই সে অনুযায়ী সরকারি কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, দুর্যোগ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজমসহ সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দেশের ভূমিকম্প ও ভূতত্ত্ব বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা—এমআইএসটির প্রফেসর মো. জয়নুল আবেদীন, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, অধ্যাপক তাহমীদ মালিক আল-হুসাইনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান, চুয়েটের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, বুয়েটের অধ্যাপক তানভীর মনজুরসহ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতের বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে জানান, ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে—যেমন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, ১০ দিনের মধ্যে বা এক মাসের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে। তারা বলেন, এমন পূর্বাভাস বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব ও ভিত্তিহীন। গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির পরিবর্তে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের উৎস ও উৎপত্তিস্থল বিশ্লেষণ করে শেকিং লেভেল নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রস্তুতি থাকতে হবে।”
অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, তরুণদের কাজে লাগিয়ে চার স্তরে—ইনডোর, আউটডোর, ব্যক্তি পর্যায় ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক— সচেতনতা কর্মসূচি চালানো উচিত। এতে জনগণের মানসিক প্রস্তুতি বাড়বে।
চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো তাদের আওতাভুক্ত ভবনগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করতে পারে। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
এমআইএসটির প্রফেসর জয়নুল আবেদীন বলেন, আতঙ্ক নয়, বাস্তবমুখী প্রস্তুতিই কাজে দেবে। জনগণের কাছে করণীয় সম্পর্কে আরও সহজবোধ্য তথ্য পৌঁছে দিতে হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) মো. খালেকুজ্জামান জানান, একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ফাটল ধরা ভবনের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ চলছে। দুই শতাধিক ভবন মূল্যায়নের পর দেখা গেছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পার্টিশন দেয়ালে ফাটল ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, সফটওয়্যারটির ফলে দ্রুত ভবন মূল্যায়ন ও পরবর্তী করণীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হচ্ছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের পাঠানো লিখিত সুপারিশ দ্রুত পর্যালোচনা করে সরকার ভূমিকম্প বিষয়ে জরুরি করণীয় নির্ধারণ করবে। সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে, যারা সমন্বিতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করবে।
বৈঠকের শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতি। দুর্যোগ হোক কিংবা যেভাবেই আসুক, আমরা যেন আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে পারি—এটা নিশ্চিত করাই এখন মূল কাজ।”