এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
১৬ নভেম্বর ২০২৫, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের ফলে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নগদ–ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “অর্থনীতি ধ্বংস হয়নি; বরং পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। গত আগস্টের চ্যালেঞ্জিং সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক ভালো।” তিনি জানান, অর্থনীতি এখন পুনরুদ্ধার পর্যায়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ড. সালেহউদ্দিন জানান, রিজার্ভ ও রপ্তানি খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, যা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। যদিও দেশে অভ্যন্তরীণ কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে, তবুও বৈদেশিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত এবং তারা ইতোমধ্যে তা স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ব্যয় কমানো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি অতীতের কিছু মেগা প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “শত শত কোটি টাকা খরচ করেও কিছু প্রকল্প এখন শুধু স্মারক বা ভাস্কর্যের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”
আগামী কয়েক মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় উল্লেখ করে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বিদ্যমান কাঠামোকে পরিমার্জন ও সমন্বিত করে নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করাই এখন প্রধান দায়িত্ব, যাতে তারা সেগুলো আরও আধুনিকভাবে এগিয়ে নিতে পারে।
তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষাসেবা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক খাতেও উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ খাদ্য সুরক্ষা ছাড়াও আরও উন্নত জীবনমান প্রত্যাশা করে—এটি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকাও তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএপিও–নগদের চেয়ারম্যান কায়সার এ. চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।