বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

শিশুদের নিরাপদ শৈশব ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী


দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ 

শিশুদের নিরাপদ শৈশব ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত। তবে শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, সামাজিক সহিংসতা ও বৈষম্যের মতো সমস্যা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) বাণীটি দেওয়া হয়।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছরের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ উদযাপিত হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি শিশু একেকটি ফুল। তাদের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে পথপ্রদর্শক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, অভিভাবক এবং দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তাই সঠিক যত্ন, স্নেহ ও শিক্ষার মাধ্যমে তাদের গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিশুদের হাসিমাখা মুখ নতুন বাংলাদেশের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক। প্রতিটি শিশুর সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা নৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব।

শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৮ সাল থেকে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা চালু করেছে। শিশুদের প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বাণীতে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আইপিইসি প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

তারেক রহমান বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, খেলাধুলা, শিল্প ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এ জন্য তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠানটির অর্ধশতকের এই যাত্রা লাখো শিশুর গান, চিত্রকর্ম এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী নতুন স্বপ্ন ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পথ দেখাবে। 

শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে দেশের সব শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুকল্যাণে নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।