অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির
৮ জুলাই ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারি ব্যয়ে মিতব্যয়িতা আনার লক্ষ্যে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগের নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পরিপত্রের মূল সিদ্ধান্ত ও শর্তসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. যানবাহন কেনা স্থগিত ও ইলেকট্রিক গাড়ির বাধ্যবাধকতা
চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে।তবে ১০ বছরের অধিক পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে গাড়ি কেনা যাবে।একটি নতুন শর্ত যুক্ত করে বলা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তা কাজে ব্যবহারের মোটরযান বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনকৃত বা নতুন কেনা জিপ বা কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল হতে হবে।সরকারি চাকরিজীবীদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধাও আপাতত বন্ধ থাকবে।
২. বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে নিষেধাজ্ঞা
সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে।তবে বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের (ডনোর) অর্থায়নে এবং বিভিন্ন স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে।প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বা ফ্যাক্টরি অ্যাক্সেপটেন্স টেস্ট -এর ক্ষেত্রে কেবল জটিল প্রকৃতির পণ্য এবং যেখানে পিএসআই বাধ্যতামূলক, সেখানে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কর্মকর্তা বিদেশ যেতে পারবেন। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৩. ভবন নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণ
পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে চলমান নির্মাণ কাজ কমপক্ষে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে তা শেষ করা যাবে।পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ভূমি অধিগ্রহণ করা যাবে।
৪. থোক বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্প
চলতি অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে থোক বরাদ্দের কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না।পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সংরক্ষিত বরাদ্দ অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।উন্নয়ন বাজেটের আওতায় যানবাহন কেনা বন্ধ থাকলেও এই পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলযোগ্য হবে।
পরিপত্রে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সব ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।