শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

কুরবানির চামড়া পাচারের সুযোগ নেই, ট্যানারিতে রেকর্ড চামড়া সংগ্রহ: বাণিজ্যমন্ত্রী


বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, এবারের কুরবানির পশুর চামড়া পাচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং যেখানে চামড়া জড়ো করা হচ্ছে, সেখানে সার্বক্ষণিক তদারকি চলছে। এদিকে, ঈদের দিন থেকেই সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর ট্যানারিগুলোতে রেকর্ডসংখ্যক পশুর কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। চামড়া খাতকে শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে কাঁচা চামড়া রপ্তানির চেয়ে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশব্যাপী চামড়া সংরক্ষণের স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
কুরবানির চামড়া পাচারের সুযোগ নেই, ট্যানারিতে রেকর্ড চামড়া সংগ্রহ: বাণিজ্যমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পবিত্র ঈদুল আজহায় কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া পাচার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, চামড়া যেখানে যেখানে জড়ো করা হচ্ছে, সেসব স্থানে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজার এলাকায় কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "অন্যান্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি সংখ্যক চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং তা নির্বিঘ্নে ট্যানারিতে পৌঁছাবে। ভবিষ্যতে এই চামড়া সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে একটি স্থায়ী অবকাঠামোয় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।"

কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, কাঁচা চামড়া অর্থাৎ ‘ওয়েট ব্লু’ সরাসরি রপ্তানি করা লাভজনক নয়। ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি করে যে আয় হয়, তার চেয়ে সেই চামড়া দিয়ে দেশে জুতা, বেল্ট বা অন্যান্য ফিনিশড পণ্য উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করলে অনেক বেশি মূল্য সংযোজন হয়। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, অন্যদিকে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সে কারণে সরকার চামড়া দিয়ে প্রস্তুত পণ্য রপ্তানিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী দিনে দেশের সব কুরবানির চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণের বড় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে, আজ শুক্রবার (২৯ মে) সকালে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরী সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ট্যানারি কারখানাগুলোতে রেকর্ডসংখ্যক পশুর কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে চামড়াবোঝাই ট্রাক একের পর এক শিল্পনগরীতে প্রবেশ করতে থাকে। ঈদের দিন থেকেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ চামড়া এসেছে এখানে।

বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান, শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫১৯টি ট্রাকে করে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০টি চামড়া শিল্পনগরীতে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া রয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৯টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া রয়েছে ১৬ হাজার ৯০টি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রক্তযুক্ত কাঁচা চামড়া আসার পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন যেসব চামড়া আসবে, সেগুলো মূলত লবণযুক্ত চামড়া। সার্বিকভাবে এবারের ঈদে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি চামড়া সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।