খাল-নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
২২ মে ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পোস্টারবিহীন নির্বাচন ব্যবস্থা। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার না রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের যে বিধান রয়েছে তা বাতিল করা হবে। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগও রাখা হচ্ছে না। নির্বাচন হবে পুরোপুরি নির্দলীয়ভাবে এবং কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।
বর্তমানে নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সব স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে কতটা বাড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। এছাড়া ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তিনি জানান, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ চলছে। ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে এবং জুন মাসের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে এবং ঈদের আগে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকেই নির্বাচন শুরু হতে পারে। নির্বাচন কমিশন আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন এই জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার।
প্রথমত, সরকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, সরকার কী চায় এবং তাদের অবস্থান কী-তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে সংঘর্ষ নয়। তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব। তিনি বলেন, ইসির নিজস্ব শক্তি সীমিত হলেও নীতি ও দৃঢ়তার জায়গা থেকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। চতুর্থত, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সততা ও নেতৃত্ব। তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসাররা যদি আন্তরিকভাবে অনিয়ম প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব।