শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

সাধারণ জ্বর নাকি ডেঙ্গু? চেনার সঠিক উপায় ও লক্ষণ


বর্ষা ও গরমের মৌসুমে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুর অনেক উপসর্গের মিল থাকায় শুরুতে শুধু লক্ষণ দেখে দুটিকে আলাদা করা কঠিন। তবে কিছু উপসর্গ, জ্বরের ধরন ও পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে সতর্ক থাকা জরুরি।

২১ আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ 

সাধারণ জ্বর নাকি ডেঙ্গু? চেনার সঠিক উপায় ও লক্ষণ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জ্বর হলে অনেকেই এটিকে সাধারণ সর্দি-জ্বর বা ভাইরাল জ্বর ভেবে কয়েক দিন অপেক্ষা করেন। কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিলে ডেঙ্গুর বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে রাজধানীসহ দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। সাধারণ সর্দি-জ্বরের সাথে ডেঙ্গুর শুরুর দিকের লক্ষণে অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকায় অনেকেই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেন। তবে সঠিক সময়ে ডেঙ্গু সনাক্ত করতে না পারলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য কিছু লক্ষণ খেয়াল করলেই বুঝে নেওয়া সম্ভব আপনার জ্বরটি সাধারণ নাকি ডেঙ্গু।

সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের মূল পার্থক্য:

জ্বরের তীব্রতা: সাধারণ ফ্লু বা ভাইরাসের কারণে জ্বর ধীরে ধীরে বাড়ে এবং তাপমাত্রা সাধারণত ১০১-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে। অন্যদিকে, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে হুট করেই তীব্র জ্বর আসে এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

শরীরে তীব্র ব্যথা: ডেঙ্গু জ্বরকে বলা হয় ‘ব্রেক-বোন ফিভার’ বা হাড়ভাঙা জ্বর। এতে চোখ, হাড়, মাংসপেশি এবং শরীরের প্রতিটি জোড়ায় মারাত্মক ব্যথা অনুভব হয়। সাধারণ জ্বরে শরীর ব্যথা হলেও তা এতটা তীব্র হয় না।

চোখের পেছনের অংশে ব্যথা: চোখের পেছনের অংশে গভীর ও তীব্র ব্যথা অনুভব হওয়া ডেঙ্গু জ্বরের অন্যতম একটি নির্দিষ্ট লক্ষণ, যা সাধারণ জ্বরে দেখা যায় না।

র‌্যাশ বা চর্মরোগ: ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। সাধারণ সর্দি-জ্বরে এই জাতীয় চামড়ার সমস্যা সাধারণত দেখা যায় না।

বমি ভাব ও ক্লান্তি: ডেঙ্গু হলে তীব্র ক্লান্তি, রুচিহীনতা, বমি ভাব বা ঘন ঘন বমি হওয়া এবং পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

জ্বরের পর রক্তের প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকা দ্রুত কমতে শুরু করলে ডেঙ্গু বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে। যদি মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, বমির সাথে রক্ত যায়, পায়খানা কালো রঙের হয়, প্রচণ্ড পেটে ব্যথা থাকে অথবা শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

জ্বর আসার প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ‘NS1 Antigen’ পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার (যেমন- ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, সুপ) এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কেবল প্যারাাসিটামল সেবন করলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ (Painkiller) খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।