রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

রক্তস্বল্পতার আড়ালে লুকিয়ে নেই তো আয়রনের ঘাটতি? চিনে নিন লক্ষণ ও প্রতিকার


মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান হলো আয়রন বা লৌহ। আমাদের রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের মূল দায়িত্ব পালন করে হিমোগ্লোবিন, আর এই হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রধান কাঁচামালই হলো আয়রন। কিন্তু বর্তমান সময়ে অসচেতনতা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের শরীরেই প্রয়োজনীয় আয়রনের অভাব দেখা দেয়।

১৮ জুলাই ২০২৬, ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ 

রক্তস্বল্পতার আড়ালে লুকিয়ে নেই তো আয়রনের ঘাটতি? চিনে নিন লক্ষণ ও প্রতিকার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান হলো আয়রন বা লৌহ। আমাদের রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের মূল দায়িত্ব পালন করে হিমোগ্লোবিন, আর এই হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রধান কাঁচামালই হলো আয়রন। কিন্তু বর্তমান সময়ে অসচেতনতা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের শরীরেই প্রয়োজনীয় আয়রনের অভাব দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে 'আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া' বা রক্তস্বল্পতা বলা হয়।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে তা হুট করে বোঝা না গেলেও, আস্তে আস্তে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ ও ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করে:

১।পর্যাপ্ত আয়রনের অভাবে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। ফলে কোনো পরিশ্রমের কাজ না করেই শরীর সবসময় ক্লান্ত ও দুর্বল লাগে।

২। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে ত্বকের স্বাভাবিক লালচে ভাব বা উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে মুখ, মাড়ি, নখ এবং চোখের ভেতরের অংশ ফ্যাকাশে দেখায়।

৩।সামান্য হাঁটাহাঁটি বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময়ও দম ফুরিয়ে আসার মতো অনুভূতি হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

৪।মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘন ঘন মাথাব্যথা এবং মাথা ঘোরানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। আয়রনের অভাবে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে প্রচুর চুল পড়তে শুরু করে। এছাড়া নখগুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং চামচের মতো বেঁকে যেতে পারে (Spoon nails)।

৫। কর্মক্ষেত্রে বা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ার পেছনেও আয়রনের হাত থাকতে পারে।

আয়রনের অভাব পূরণের প্রতিকার

খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এবং সচেতনতার মাধ্যমে শরীর থেকে আয়রনের ঘাটতি দূর করা সম্ভব। 

১. আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুই ধরনের আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি । প্রাণিজ উৎস (হিম আয়রন): কলিজা (গরু বা খাসি), লাল মাংস (বিফ/মাটন), ডিম এবং সামুদ্রিক মাছ। শরীর এই উৎস থেকে আয়রন দ্রুত শোষণ করতে পারে।

উদ্ভিজ্জ উৎস (নন-হিম আয়রন): কচুশাক, পালং শাক, ডাল (বিশেষ করে মসুর ডাল), ছোলা, বিট, ডালিম, খেজুর, কিসমিস এবং বিভিন্ন ধরনের বাদাম।

২. ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার খাও: উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে শরীর সরাসরি সহজে আয়রন শোষণ করতে পারে না। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সাথে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার (যেমন: লেবু, আমলকী, পেয়ারা, কমলা বা টমেটো) খাওয়া উচিত। এটি শরীরে আয়রনের শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

খাবার খাওয়ার ঠিক পরপরই চা বা কফি পানের অভ্যাস পরিহার করুন। চা-কফিতে থাকা 'ট্যানিন' ও 'ক্যাফেইন' শরীরকে খাবার থেকে আয়রন শোষণ করতে বাধা দেয়। খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর চা বা কফি পান করা নিরাপদ।যদি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরও আয়রনের ঘাটতি পূরণ না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল গ্রহণ করা উচিত। নিজে থেকে কখনোই আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়, কারণ শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে যাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।