শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

বিক্ষোভকারীদের ‘সৃষ্টিকর্তার শত্রু’ আখ্যা ইরান সরকারের, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি


টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও বিক্ষোভকারীদের সহায়তাকারীদের ‘সৃষ্টিকর্তার শত্রু’ ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ চরম শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল।

১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ 

বিক্ষোভকারীদের ‘সৃষ্টিকর্তার শত্রু’ আখ্যা ইরান সরকারের, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। আন্দোলনে অংশ নেওয়া বা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করলে সংশ্লিষ্টদের ‘সৃষ্টিকর্তার শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ। ইরানি আইনে এই অভিযোগের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, যারা সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেবে কিংবা ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করবে’, তাদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হবে।

ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিরোধিতায় যুক্ত থাকে, তাহলে সেই সংগঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেনে যারা সহায়তা করে, তাদেরও ‘মোহরেব’ বা খোদার শত্রু হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে- এমনকি তারা সরাসরি অস্ত্র হাতে না নিলেও। এ ছাড়া আইনের ১৯০ ধারায় ‘মোহরেব’ অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তিগুলো অত্যন্ত কঠোর। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, প্রকাশ্যে ফাঁসি, ডান হাত ও বাম পা কেটে ফেলা অথবা আজীবন অভ্যন্তরীণ নির্বাসন।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এবং দেশের ওপর বিদেশি আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করে বিচার ও কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব মামলার শুনানিতে কোনও ধরনের শৈথিল্য বা সহানুভূতি দেখানো যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং দুই হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি শনিবার ও রোববার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের শাহ আমলের সিংহ ও সূর্য চিহ্নিত পুরোনো জাতীয় পতাকা এবং অন্যান্য জাতীয় প্রতীক হাতে নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখের বেশি রিয়ালে পৌঁছালে সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ চরমে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে শুরু হয় এই সরকারবিরোধী আন্দোলন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।