চুয়াডাঙ্গায় অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন
৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আটক করার পর দেশটিতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে নতুন অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসনের শর্তগুলো হলো-
১) মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো,
২) ইরান, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অন্যান্য দেশ বা নেটওয়ার্কের অপারেটিভদের ভেনেজুয়েলা থেকে বহিষ্কার করা এবং
৩) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করা।
পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ডেলসি রদ্রিগেজ একপর্যায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করবেন এবং এরপর ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন। তবে এসব দাবির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শিগগিরই নির্বাচন হচ্ছে না।
মাদুরোকে আটক করার দুই দিন পার হলেও ভেনেজুয়েলা নিয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী কৌশল এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। হোয়াইট হাউস দাবি করছে, এটি কোনো সরকার উৎখাত বা যুদ্ধ নয়; বরং একজন মাদকসম্রাটের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমেই নেওয়া সীমিত সামরিক পদক্ষেপগুলোর যৌক্তিকতা তুলে ধরছে প্রশাসন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নাটকীয় সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার প্রবণতা ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত প্রায় তিন কোটি মানুষের এই দেশে ভুল কোনো সিদ্ধান্ত সহিংসতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।
বর্তমান মার্কিন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী হলেও, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা- চাপের মুখে তিনি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবেন। অন্যথায় বড় ধরনের সামরিক অভিযানের মুখে পড়তে পারেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,
‘ভেনেজুয়েলা এখন পর্যন্ত খুব ভদ্র আচরণ করছে। তবে আমাদের মতো শক্তিশালী বাহিনী থাকাটা কাজে দেয়। তারা যদি ঠিকমতো না চলে, আমরা দ্বিতীয়বার হামলা করব।’
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে জানানো হয়েছে, মাদুরোর তুলনায় রদ্রিগেজের কাছ থেকে বেশি সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। জেনেভায় ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ মিশনও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তবে রদ্রিগেজকে দেওয়া দাবিগুলোর বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করতে চাননি।
এর আগে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ভেনেজুয়েলা আর দেখতে চায় না, যা ইরান ও হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন প্রতিপক্ষ শক্তির মিলনস্থল, মাদক চক্রের নিরাপদ আশ্রয় কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাঠানোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, ট্রাম্প টিম মনে করে রদ্রিগেজ এখন ‘ছোট রশিতে বাঁধা’। প্রয়োজনে তাকে নিজেদের কৌশল অনুযায়ী ব্যবহার করে পরে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। মাদুরো আটক হওয়ার পর প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, রোববার রাতে রদ্রিগেজ জানান- তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সহযোগিতার এজেন্ডা’ নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতাকেন্দ্রে বিভক্তি। রদ্রিগেজ ছাড়াও এতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। এক সূত্রের ভাষায়, ‘এটা বিষধর সাপের গর্ত।’ এ অবস্থায় অনেক ভেনেজুয়েলান মনে করছেন, মাদুরোকে আটক করার পেছনে রদ্রিগেজের ভূমিকা থাকতে পারে- যা তার জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।