শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

দায়িত্বের প্রথম দিনেই বড় সিদ্ধান্তে নতুন মেয়র জোহরান মামদানি


নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই শহরকে ‘পুনরায় গড়ে তোলার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে সবার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, এই শহরে একটি নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে।

২ জানুয়ারী ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ 

দায়িত্বের প্রথম দিনেই বড় সিদ্ধান্তে নতুন মেয়র জোহরান মামদানি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র হিসেবে স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১২টা ৪ মিনিটে ম্যানহাটনের সিটি হলের নিচে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে শপথ নেন জোহরান মামদানি। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রথম দিনেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন, শহরের শাসনব্যবস্থায় আসছে মৌলিক পরিবর্তন। 

৩৪ বছর বয়সি মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র। একই সঙ্গে কুরআনের ওপর শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা তিনিই প্রথম মেয়র। শপথ গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে মামদানি বলেন, “আজ আমরা সাহসিকতার সঙ্গে শাসন শুরু করছি। হয়তো সবসময় সফল হবো না, কিন্তু চেষ্টা করার সাহস কখনো হারাব না। আমি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক নীতি মানি এবং সেই নীতিতেই শাসন করব। আমাকে কখনো চরমপন্থি বলা হলেও আমি আমার নীতি ত্যাগ করব না।”

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি তার প্রশাসনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে জারি করা সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন মামদানি। তবে তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদেশ পুনরায় জারি করা হবে। তিনি বলেন, “কাজ কেবল শুরু হয়েছে। আমরা সবার জন্য কাজ করব- শুধু ধনী বা অল্প কিছু মানুষের জন্য নয়।” তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বাসভবন সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন।

মামদানির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে চাইল্ডকেয়ার, বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য ভাড়া স্থগিত রাখা এবং শহর পরিচালিত নতুন গ্রোসারি স্টোর চালু করা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই তার লক্ষ্য।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী রামা দুয়াজি এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিসিয়া জেমস, যাকে মামদানি তার ‘রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। শপথ পাঠ করান যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিক বার্নি স্যান্ডার্স। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেত্রী আলেক্সান্দ্রিয়া ওক্যাসিও-কোর্টেজ।

সব মিলিয়ে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে জোহরান মামদানির অভিষেক শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।