বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: ফ্রান্সে ১৮ জনের মৃত্যু, ১২ শহরে রেড অ্যালার্ট


ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া রেকর্ড ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার (২২ জুন) ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রার পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে এবং তীব্র গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের একটি বড় অংশ একটি ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয়ের নিচে ঢাকা পড়ে রয়েছে, যা উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে তীব্র গরম বাতাস ইউরোপের দিকে টেনে আনছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেন, ইতালি এবং ব্রিটেনেও তাপমাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

২৩ জুন ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ 

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: ফ্রান্সে ১৮ জনের মৃত্যু, ১২ শহরে রেড অ্যালার্ট
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া রেকর্ড ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার (২২ জুন) ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রার পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে এবং তীব্র গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে একটি উত্তপ্ত গাড়ির ভেতর আটকে থাকা দুই শিশুও রয়েছে। কারপেনত্রাস শহরের একজন প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের একটি বাড়ির সামনে পার্ক করা পারিবারিক গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সি দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তাদের মা। তবে উদ্ধারকর্মীরা শত চেষ্টা করেও তাদের বাঁচাতে পারেননি।

বর্দো অঞ্চলে তীব্র গরমের কারণে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সি তিন প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে নদী বা জলাশয়ে নামার পর রোববার (২১ জুন) থেকে সোমবারের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফরাসি নাগরিক নিরাপত্তা সেবার মুখপাত্র জেরোম বোলাঞ্জার সবাইকে কেবল নজরদারি রয়েছে এমন নিরাপদ স্থানেই সাঁতার কাটার আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমানে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের একটি বড় অংশ একটি ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয়ের নিচে ঢাকা পড়ে রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতিটি ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত, যা গ্রিক অক্ষর ওমেগার মতো আকার ধারণ করে মাঝখানে গরম বাতাস ধরে রাখে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার কারণে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে তীব্র গরম বাতাস ইউরোপের দিকে ধেয়ে আসছে। বাতাস ও বাতাসের গতিপ্রবাহ না থাকায় এই অসহ্য গরম দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে।

তীব্র এই গরমে ফ্রান্সের বর্দো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা গত আগস্টের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসেও জুনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুধু ফ্রান্স নয়, স্পেনের অপেক্ষাকৃত শীতল উত্তরাঞ্চলীয় শহর সান সেবাস্তিয়ানেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যা জুনের স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পেনের শ্রম মন্ত্রণালয় তীব্র গরমে কর্মীদের কাজের সময় কমানো বা সমন্বয় করার আইনগুলো কোম্পানিগুলো মেনে চলছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে ইতালির ১২টি শহরে সোমবার রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তুরিন শহরে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামাল দিতে জরুরি জেনারেটর যুক্ত করা হয়েছে এবং কর্মীদের শিফট দ্বিগুণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ১৯৫৭ সালের জুনের রেকর্ডকে অনায়াসেই ভেঙে দেবে।

এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের ওপরও মারাত্মকভাবে পড়েছে। বেলজিয়ামের একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা রোমেন দে জেগেরে জানান, ভবনের ছাদে তাপমাত্রা ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর কারণে সেখানে বাসা বেঁধে থাকা সোয়ালো বা চড়ুইয়ের মতো পাখিরা আক্ষরিক অর্থেই বাসার ভেতর সেদ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক পাখি ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। গত তিন দিনে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে এমন ১৫০টি বিপন্ন পাখি ও প্রাণী নিয়ে আসা হয়েছে। (সূত্র: সিবিসি নিউজ)