২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের শীর্ষে ঢাকা
২১ জুন ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ দেড় মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও পূর্ণোদ্যমে তেল রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের 'সি আইল্যান্ড' টার্মিনালে তিনটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ নোঙর করেছে। এই জাহাজগুলোর প্রতিটির ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত শুক্রবার পর্যন্ত এই জেটিগুলো সম্পূর্ণ খালি ছিল। মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে জুনের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই এলাকায় কোনো বড় আকারের জাহাজের উপস্থিতি দেখা যায়নি বললেই চলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটি জেটিতে ভিড়ে তেল লোড করা শুরু করেছে এবং তৃতীয় জাহাজটি কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতাই এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল কারণ। উত্তেজনা কমে আসায় ইরান দ্রুত তার সরবরাহ চেইন সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে সমুদ্রসীমার অন্যান্য অংশেও ইরানের তেল পরিবহন সচল রয়েছে। জানা গেছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক জাহাজ সরাসরি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চাবাহার বন্দরের কাছে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি না কাটলেও ইরান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধাপে ধাপে জাহাজগুলোকে পুনরায় উপসাগরে প্রবেশ করাচ্ছে। ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ‘স্ট্রিম’, ‘ইম্পালা’ এবং ‘লরেন ২’ নামের তিনটি বড় তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
উল্লেখ্য, খারগ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন। দেশটির উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই কেন্দ্রটি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের ধারণা, উপসাগরের পূর্ব দিকে আরও অন্তত ২০টি তেলবাহী জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেলের সরবরাহ এবং দেশটির রপ্তানির পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি (NDTV)