চুয়াডাঙ্গায় অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন
৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
দেশে নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্তত ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাসটির সংক্রমণের ধরন ও বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরেন আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী- এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন। আশঙ্কাজনকভাবে, এই চারজনই মৃত্যুবরণ করেন, যা শতভাগ মৃত্যুহার নির্দেশ করে। এদের মধ্যে নওগাঁ জেলার আট বছর বয়সী এক শিশুর ঘটনা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’। শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে এই শিশুর শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়।
প্রবন্ধে জানানো হয়, ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল- যেমন কালোজাম, খেজুর ও আম। এটি নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের একটি নতুন ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক পথ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আইইডিসিআর জানায়, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায় নিপাহ সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশ্বব্যাপী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার যেখানে প্রায় ৭২ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুহার আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, এতদিন নিপাহ ভাইরাসের প্রধান উৎস হিসেবে খেজুরের কাঁচা রসকে দায়ী করা হলেও নতুন তথ্য প্রমাণ করছে- বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সারা বছর সংক্রমণ ঘটতে পারে।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের বিষয়েও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়। এতে স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সারা বছরের এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।’
নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের সবারই মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালের নতুন তথ্য ও সংক্রমণের পরিবর্তিত ধরন নিপাহ মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।