এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধন করে জারি করা এ অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রকাশ্যে ধূমপান করলে আগে যেখানে ৩০০ টাকা জরিমানা ছিল, সেখানে এখন সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা যাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, শপিং মল, পরিবহন টার্মিনাল, পার্ক, মেলা, ভবনের বারান্দা, প্রবেশপথ এবং আশপাশের উন্মুক্ত স্থান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া আগের আইনে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার যে বিধান ছিল, তা নতুন অধ্যাদেশে বাতিল করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেজিংয়ে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের উভয় পাশে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে রঙিন ছবি ও লেখাসহ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা মুদ্রণ করতে হবে। আগে এই সতর্কবার্তার পরিমাণ ছিল ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ও কুইটলাইন হেল্প নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
অধ্যাদেশে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সিনেমা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে তামাক ও ই-সিগারেট ব্যবহারের দৃশ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেটসহ যেকোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পয়েন্ট অব সেলসে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়ক প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্রেতার কাছে বিক্রির সময় ছাড়া এসব পণ্য দৃষ্টির আড়ালে রাখতে হবে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে তামাক কোম্পানির নাম, লোগো বা সহায়তা প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা আগের এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, আইন ভঙ্গের অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজনে অবৈধ বিজ্ঞাপন অপসারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।