কঠিন চ্যালেঞ্জ • ফাইনালের স্বপ্নপূরণে বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আসামি ডনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তারের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ডনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মফিজুল ইসলাম আশরাফ। পরে তিনি আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতেও ডনের জামিন আবেদন নাকচ হয়েছিল।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আসে গত ২০ অক্টোবর। ওই দিন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক তাঁর মায়ের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সালমান শাহর বাবার অভিযোগ এবং ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি বিবেচনায় নিয়ে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন আদালত। অভিযোগ তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছিল।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে নিজের ফ্ল্যাটে মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ, যাঁর প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। তাঁর মৃত্যুর পর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যার অভিযোগ তুলে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।
আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাঁর বাবা রিভিশন মামলা করলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ সময় পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। সেখানেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়। বাবার মৃত্যুর পর মামলাটি চালিয়ে যান সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তভার পায় র্যাব। তবে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট আদালতের নির্দেশে সংস্থাটি তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পারিবারিক কলহ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত মানসিক টানাপোড়েনের কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হননি তাঁর মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তিনি আরও তদন্তের দাবি জানান।
২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতি দেন। এর পরও সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। ২০২২ সালের ১২ জুন আবেদনটি গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘদিন এর শুনানি হয়নি।
অবশেষে গত ২০ অক্টোবর আদালত রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে হত্যা মামলা দায়ের ও তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিনের এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ডনের জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।