বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা প্রদানের সময় ঘুস গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে সেই অনৈতিক ঘটনার তথ্য গোপন করতে সাংবাদিককে উৎকোচ দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শুধাংশু কুমার সাহাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা কুমিল্লায় অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে এক সেবাগ্রহীতার এনআইডি সংশোধনের জন্য অবৈধভাবে ৩০০ টাকা গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ঘুস গ্রহণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও যাতে গণমাধ্যমে প্রচার না হয়, সে উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ২৯ হাজার টাকা উৎকোচ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। পরবর্তী সময়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইডিইএ দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করলেও তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক ছিল না।
পরবর্তী সময়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতির সানুগ্রহ অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী তাকে ‘চাকরি থেকে অপসারণ’ নামক গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশনের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই এ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপসারণের আগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, রংপুরে সংযুক্ত ছিলেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে।