জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রতিবেদন আজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রায়ের বাজার এলাকায় এই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিআইডি জানায়, এ পর্যন্ত নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে নয়টি পরিবার ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে। পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া শহীরা হলেন- শহীদ সোহেল রানা (৩৮), শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ আসাদুল্লাহ (৩২), শহীদ মাহিন মিয়া (৩২), শহীদ ফয়সাল সরকার (২৬), শহীদ পারভেজ বেপারী (২৩), শহীদ কাবিল হোসেন (৫৮) এবং শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯)।
কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডির উদ্যোগে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘তৎকালীন সরকার যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, সত্য উদঘাটন ও শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে- সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, আর তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বৈঠকে বলেন, একজন শহীদের মা নিয়মিত সিআইডিতে এসে সন্তানের খোঁজ করতেন। তিনি রায়ের বাজারে গিয়ে একটি গাছের নিচে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আশ্চর্যজনকভাবে সেই গাছের নিচেই তাঁর সন্তানের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলেই ল্যাব স্থাপন করে নমুনা পরীক্ষা করার মাধ্যমে পুলিশের ফরেনসিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিআইডি জানায়, জুলাই–আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেসব পরিবারের সদস্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, সিআইডির ডিআইজি মো. জমশের আলী, ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম, এসএসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ ডিএনএ অ্যানালিস্ট আহমাদ ফেরদৌস এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিসের প্রতিনিধি মো. জাহিদ হোসেন।