টানা তিন দফা কমার পর আবার বাড়ল সোনার দাম
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে গ্রহণ করা বিপুল পরিমাণ অপরিকল্পিত ঋণ এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশাল আর্থিক দায়ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকায়। জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমাতে বর্তমান সরকার নানামুখী ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে ও সুশৃঙ্খল ধারায় ফিরিয়ে আনা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, করের আওতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাড়িয়ে সরকারের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন ঋণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করতে অগ্রাধিকারবহির্ভূত প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ অথবা স্থগিত রাখা হচ্ছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার সুসংহত করা এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ ঠেকাতে নির্দিষ্ট সীমা বা সিলিং প্রবর্তনের পাশাপাশি এর সুদের হারকে বাজারভিত্তিক করার প্রক্রিয়া চলছে। এতে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া হঠাৎ অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত অর্থায়ন এড়াতে ‘অ্যানুয়াল বরোইং প্ল্যান’ এবং নগদ প্রবাহের সঠিক হিসাব রাখতে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিগত সরকারের অর্থনৈতিক নীতি এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদ সদস্য রানু তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, বর্তমান ঋণের ৭৮ শতাংশই বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে নেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ সাড়ে ১৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি। এসব ঋণের একটি বড় অংশ পাচার হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে নেওয়া অপচয়মূলক ঋণের খেসারত এবং বিশাল দায়ভার আজ বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। স্বল্প সময়ে নেওয়া এসব ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে জাতীয় অর্থনীতি চরম চাপের মুখে পড়েছে এবং সরকারকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।
টেকসই বিনিয়োগের মূলনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’, ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত দিক-এই চারটি নীতি অনুসরণ করা আবশ্যক। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে অধিকাংশ প্রকল্পেই এসব নীতির কোনোটি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের ওপর বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্পের দায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের প্রতিটির আলাদা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর প্রায় ১৩০০টি প্রকল্পের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি প্রজেক্টের আলাদা ইভ্যালুয়েশন করছি। ইতোমধ্যেই বহু অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্ট বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে যেগুলো সমাপ্তির কাছাকাছি, সেগুলো শেষ করা ছাড়া উপায় নেই।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক ভিশন ও দিকনির্দেশনায় সরকার সব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানান, বিদেশফেরত কর্মী ও প্রবাসীদের দেশের বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে স্বাবলম্বী করে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দুই পর্যায়ে মোট ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন ঋণ দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সম্মানজনক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনুকূলে দুই দফায় ১ হাজার কোটি টাকা করে মোট ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
১০ বছর মেয়াদি এই তহবিলের ব্যাংক রেট নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। তবে গ্রাহক বা সুবিধাভোগী পর্যায়ে এই ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অর্থ বিদেশফেরত প্রবাসীরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, সেবা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে তারা চাকরির ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রাক-অর্থায়ন কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৪২ হাজার ৭৬২ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪২ হাজার ৩০৩ জন সুবিধাভোগী প্রত্যক্ষভাবে ঋণ গ্রহণ করেছেন। প্রথম পর্যায়ের সফল বাস্তবায়নের পর দ্বিতীয় ধাপের ঋণ বিতরণের কাজও এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।