বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উপজেলা থেকে তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজবে বাংলাদেশ ব্যাংক, মিলবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন


উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ অর্থের অর্ধেক দেওয়া হবে ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি অর্ধেক থাকবে অনুদান। প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আট জেলার ৬৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু করে ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে নির্বাচন করা হবে।

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ 

উপজেলা থেকে তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজবে বাংলাদেশ ব্যাংক, মিলবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে অর্থায়ন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর অর্ধেক থাকবে ব্যাংক ঋণ এবং বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মসূচির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করবে। পরে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক ধারণা এবং প্রকৃত অর্থের চাহিদা যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ শতাংশ হবে। এ ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানতও প্রয়োজন হবে না।

তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। পাশাপাশি ঋণ হিসাবটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হয়ে খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ভবিষ্যতে নতুন ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।

বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে আবেদনের শেষ তারিখে যাদের বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং যারা সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা, তারা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন। আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীর একটি বাস্তবসম্মত ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ সব ধরনের বৈধ ব্যবসায়িক উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচনা করা হবে।

আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দারা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কর্মসূচির বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার প্রকাশের পর এক মাস পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আট জেলা- মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার ৬৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তখন প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

শুধু অর্থায়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এ উদ্যোগ। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের দেওয়া হবে উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ এবং ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা। পাশাপাশি তাদের জন্য বাজার সংযোগের সুযোগ তৈরিরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে নতুন ও সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।