বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এক ধাপ অবনতি, ১৩তম স্থানে বাংলাদেশ


বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫ অনুযায়ী, ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৩তম। আগের বছর ২০২৪ সালে এই অবস্থান ছিল ১৪তম। তবে স্কোর কমলেও অন্য দেশগুলোর তুলনায় সামান্য পরিবর্তনের কারণে তালিকায় এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ 

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এক ধাপ অবনতি, ১৩তম স্থানে বাংলাদেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় এক ধাপ অবনতি হয়ে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫–এ এ তথ্য উঠে এসেছে। সূচকটি ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে সূচকটির বিস্তারিত তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশ ২০২৫ সালে পেয়েছে ২৩। আগের বছর ২০২৪ সালেও বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৩ এবং ২০২৩ সালে ছিল ২৪। অর্থাৎ গত এক বছরে স্কোর এক পয়েন্ট কমেছে। তবে অন্য দেশগুলোর অবনতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ এগিয়েছে।

সিপিআই ২০২৫ অনুযায়ী, ১০০ স্কোরের মধ্যে বৈশ্বিক গড় স্কোর ৪২। সেখানে বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর প্রায় অর্ধেকেরও কম। শুধু তাই নয়, গত ১২ বছরের মধ্যে এটিই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ অন্য সব দেশের তুলনায় বাংলাদেশের দুর্নীতির মাত্রা বেশি। বিশ্বে সবচেয়ে কম দুর্নীতি হয়েছে ডেনমার্কে। দেশটি ১০০ এর মধ্যে ৮৯ স্কোর পেয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। অপরদিকে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির মাত্রা দেখা গেছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়ায়। দেশ দুটির স্কোর মাত্র ৯।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের স্কোরে এক পয়েন্ট পরিবর্তনের পেছনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি ইতিবাচক মূল্যায়ন কাজ করেছে। তবে সংস্কারপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি এবং স্বচ্ছতার অভাবের কারণে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও স্বচ্ছতার কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি। আমরা একটি বড় সুযোগ হারিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে দুর্নীতির অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি। আগের রাজনৈতিক সরকারের মতো বর্তমান সরকারেরও ব্যর্থতা রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা ও আমলাতন্ত্রের দলীয়করণ দুর্নীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।”

টিআই-এর প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, কার্যকর সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।