বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আজকের মধ্যেই এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ 

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। আজ রবিবারের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

রবিবার কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক সভায় তিনি এসব কথা জানান। সভায় নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন থেকেই সারা দেশে যৌথ বাহিনীর অপারেশন শুরু হবে। নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে ইতোমধ্যে সব বাহিনী প্রধানদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব হেডকোয়ার্টার এ বিষয়ে অবগত রয়েছে।

যৌথ বাহিনীর অভিযানের তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান ইসি সানাউল্লাহ। এর মধ্যে প্রথম লক্ষ্য হলো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। নির্বাচন সামনে রেখে যেসব অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ রয়েছে, সেগুলো উদ্ধার করা হবে। যেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব না, সেগুলো যেন কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।

দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার কথা জানান তিনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তৃতীয় লক্ষ্য হিসেবে নির্বাচনকেন্দ্রিক আচরণবিধি বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে আচরণবিধির বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে যৌথ বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সিল করে দিতে হবে এবং স্থল সীমান্ত ও সাগরপথে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতকারীরা এসব এলাকা ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতেই এই যৌথ বাহিনীর অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার।