পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জানাজায় অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মেগান বোল্ডিন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এ ছাড়াও অন্তত ৩২ জন বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধি জানাজায় শরিক হন। আরও উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত একাতেরিনা সেমেনোভা, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা সিনচি, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রিড রেংলি, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। পাশাপাশি ভুটান, নেপাল ও মালদ্বীপ সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডস, লিবিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, ইতালি, সুইডেন, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, নরওয়ে, ব্রাজিল, মরক্কো, ইরান, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, কাতার, ডেনমার্ক ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা জানাজায় অংশ নেন।
কূটনীতিকদের পাশাপাশি বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সিমোন লসন পার্চমেন্টও জানাজায় শরিক হন। এছাড়া কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলামও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনই নয়, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতেও ইতিহাস গড়ে এই জানাজা। বুধবার বিকাল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
নামাজে জানাজার ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব। জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাধিস্থ করা হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক প্রভাবশালী নেত্রীর বিদায়ে দেশ-বিদেশের মানুষের এই সম্মিলিত উপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।