বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও রাস্তা অবরোধ নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা


বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোনো ধরনের আতশবাজি ফোটানো এবং রাস্তা অবরোধ করে অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। উৎসবগুলো নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে বলেও জানান তিনি।

২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:১৭ অপরাহ্ণ 

বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও রাস্তা অবরোধ নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, আসন্ন বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোনো ধরনের আতশবাজি ফোটানো যাবে না এবং রাস্তা অবরোধ বা ব্লক করে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।

সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৮তম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সভায় রুটিন আলোচনার পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি এবং জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। এ অভিযানকে আরও জোরদার ও বেগবান করতে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনের লক্ষ্যে গত ১৩ ডিসেম্বর অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ শুরু করা হয়। এ অপারেশনের মাধ্যমে গত ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৩৭ রাউন্ড গুলি, ১৩৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৬২টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি ও বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা ও ওয়ারেন্টভিত্তিক গ্রেফতারসহ মোট গ্রেফতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫০৫ জনে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে যৌথবাহিনী (পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি) এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ফয়সল করিমের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, তার মা-বাবা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু।

উৎসব উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট যাতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা যায়, সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি গির্জায় আলাদা নিরাপত্তা দেওয়া হবে। গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ সময় রাজধানীতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

তিনি আরও জানান, সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার জোরদার করা, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, কেপিআই স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষায়িত বাহিনী স্ট্যান্ডবাই রাখা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা, কন্ট্রোল রুম ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করা।