পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সব জেলায় পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল নামজারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে দেশের ২১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। সফল বাস্তবায়নের পর ধাপে ধাপে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় জমির মালিকানা সংক্রান্ত পুরোনো ধারণা- “দলিল থাকলেই জমির মালিক”- আর কার্যকর থাকছে না। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩’-এর বিধান অনুযায়ী, জমির বৈধ মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ দলিল থাকা সত্ত্বেও নামজারি না থাকলে সরকারি নথিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জমির মালিক হিসেবে গণ্য হবেন না।
নামজারি না করলে জমির মালিকদের একাধিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। সরকারি রেকর্ডে বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া ছাড়াও জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা খাজনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জমি নিয়ে আইনি জটিলতা, বিরোধ বা অধিকার অস্বীকারের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।
সরকারি সূত্র জানায়, দলিলের ভিত্তিতে জমি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পুরোনো পদ্ধতি ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। ফলে জমি ক্রয় বা উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ে নামজারি সম্পন্ন করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
নতুন ডিজিটাল নামজারি ব্যবস্থার আওতায় পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। নামজারির জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। আবেদন দাখিলের পর এসএমএসের মাধ্যমে শুনানির তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। কোনো অভিযোগ বা সহায়তার প্রয়োজন হলে হেল্পলাইন নম্বর ১৬১২২-এ যোগাযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভূমি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নামজারি ছাড়া জমি রাখা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ডিজিটাল রেকর্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকলে অন্যায়ভাবে জমি বিক্রি, মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি বা প্রকৃত মালিকের অধিকার অস্বীকার করা সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে নিজের জমির মালিকানা প্রমাণ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় সরকার দ্রুত নামজারি সম্পন্ন করার জন্য জমির মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো ধরনের জটিলতা বা হয়রানির সৃষ্টি না হয়।