বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

সুদানে ড্রোন হামলায় শহীদ ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর লাশ দেশে পৌঁছেছে


সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সদস্যের লাশ ঢাকায় পৌঁছেছে। শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের মরদেহ অবতরণের পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:৪৪ অপরাহ্ণ 

সুদানে ড্রোন হামলায় শহীদ ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর লাশ দেশে পৌঁছেছে
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শহীদ শান্তিরক্ষীদের মরদেহ বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে।

এর আগে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। দীর্ঘ আকাশপথ পাড়ি দিয়ে আজ তারা নিথর দেহে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন। দেশে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় আনুমানিক বিকাল ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী আকস্মিকভাবে ড্রোন হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী।

শহীদ শান্তিরক্ষীরা হলেন- করপোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শান্ত মণ্ডল (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা (রাজবাড়ী), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।

এ হামলায় আহত আরও আটজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বর্তমানে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শঙ্কামুক্ত। আহতরা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া), সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন (দিনাজপুর), করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি (ঢাকা), ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম (বরগুনা), সৈনিক মো. মেজবাউল কবির (কুড়িগ্রাম), সৈনিক মোসাম্মত উম্মে হানি আক্তার (রংপুর), সৈনিক চুমকি আক্তার (মানিকগঞ্জ) এবং সৈনিক মো. মানাজির আহসান (নোয়াখালী)।

আহতদের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং একজন ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ সদস্য নিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ শুরু করে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের ১১৯টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। এ পর্যন্ত জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের ১৬৮ জন বীর সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ সদস্য বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। সুদানের মরুভূমিতে শহীদ হওয়া এই ছয় শান্তিরক্ষী সেই গৌরবোজ্জ্বল ত্যাগের ধারাকে আরও সমুজ্জ্বল করলেন।