পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে দলিল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলা দালাল ও দলিল লেখকদের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং অস্পষ্ট প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ ভূমি মালিকরা যেখানে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তেন নতুন এই ব্যবস্থায় সেই জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলিলের শ্রেণী ও জমির ধরন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি এখন থেকে নির্দিষ্ট তালিকা আকারে প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে কোন জমির দলিল করতে কত টাকা খরচ হবে, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি, আইটি সার্ভিস চার্জসহ মোট ব্যয় কত সব তথ্য আগেভাগেই জানতে পারবেন ভূমি মালিকরা।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে ভূমি মালিকদের একটি নির্দিষ্ট দলিল লেখক সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভর করতে হতো। এসব দলিল লেখক অনেক সময় মনগড়া হিসাব দেখিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হতো। এই অনিয়ম বন্ধ করতেই সরকার দলিল লেখক লাইসেন্স বিধিমালা, ২০১৪ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র অনুমোদিত ও লাইসেন্সধারী দলিল লেখকরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কাজ করতে পারবেন।এছাড়া, ফি গণনায় বিভ্রান্ত ভূমি মালিকদের সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে অনলাইন “দলিল রেজিস্ট্রেশন ক্যালকুলেটর”। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ক্যালকুলেটর অ্যাপ ডাউনলোড করে জমির শ্রেণী, অবস্থান, পরিমাণ ও মৌজার তথ্য দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃত রেজিস্ট্রেশন খরচ জানা যাবে।
সরকার আরও জানায়, রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। কোনো আনরেজিস্টার্ড দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করা যাবে না এবং ভূমি রেকর্ড সংশোধনও সম্ভব হবে না এই বিষয়ে ভূমি মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে। যদি কোনো দলিল লেখক বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাড়তি টাকা দাবি করেন বা প্রতারণার আশ্রয় নেন, সেক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সরাসরি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্ধারিত নম্বরে কল করেও অভিযোগ করার সুযোগ থাকবে।
সরকারের আশা, নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দালালচক্রের আধিপত্য কমে আসবে, রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ে স্বচ্ছতা তৈরি হবে এবং ভূমি মালিকরা প্রতারণা থেকে সুরক্ষা পাবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ভূমি খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে।