বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

বিআরটিএ কার্যালয়ে নেই আলাদা টয়লেট, প্রয়োজনে মসজিদের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছেন নারীরা


রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী সেবা প্রার্থীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে পাশের মসজিদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:০০ অপরাহ্ণ 

বিআরটিএ কার্যালয়ে নেই আলাদা টয়লেট, প্রয়োজনে মসজিদের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছেন নারীরা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ ও নবায়নসহ নানা সেবা নিতে বিআরটিএ কার্যালয়ে ভিড় করেন। এসব সেবা প্রার্থীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী হলেও রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ে নারীদের জন্য নেই কোনো পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা। ফলে নারী সেবা প্রার্থীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

সেবা নিতে এসে নারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে বা অফিস চত্বরে অবস্থান করতে হয় আবেদনকারীদের। এই দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে নারীরা পড়ছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। কারণ, কার্যালয়ের ভেতরে কিংবা আশপাশে নারীদের জন্য নির্ধারিত কোনো টয়লেট নেই।

মিরপুর-১২ এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা এক নারী আবেদনকারী বলেন,
"লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ নারীদের জন্য একটি টয়লেটও নেই। বাধ্য হয়ে পাশের মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করতে হয়, যা আমাদের জন্য খুবই অস্বস্তিকর।"

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রয়োজনের তাগিদে একাধিক নারী সেবা প্রার্থী বিআরটিএ কার্যালয় ছেড়ে পাশের মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করছেন। এমন দৃশ্য শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বরং এটি নারীর মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরছে।

নারী সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নারী সরকারি সেবা নিতে আসার পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নারীদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ টয়লেট ব্যবস্থা না থাকা দুঃখজনক ও অমানবিক। তাদের মতে, সরকারি দপ্তরে নারী-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি অফিসগুলোতে নারী-বান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করা কেবল সুযোগ-সুবিধার বিষয় নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার ইস্যু। নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধাও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নারী সেবা প্রার্থীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অচিরেই নারীদের জন্য পৃথক টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করবে।