পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি বা খারিজ একটি অপরিহার্য সরকারি প্রক্রিয়া। পূর্ববর্তী মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ান ও রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করাকেই নামজারি বলা হয়। একে মিউটেশন বা জমা একত্রীকরণ নামেও অভিহিত করা হয়।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, নামজারি সম্পন্ন না থাকলে জমি বিক্রি, বন্ধক রাখা বা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও আইনি জটিলতার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
নামজারির ধাপসমূহ:
নামজারির জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা অ্যাসিল্যান্ড (AC Land) অফিসে আবেদন করতে হয়। বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইন- দুই পদ্ধতিতেই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজন হয় চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশন কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশ সনদপত্র, আবেদনকারী ও অন্যান্য ওয়ারিশদের পাসপোর্ট সাইজ ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পূর্ববর্তী মালিকের নামে থাকা দলিলের কপি এবং সর্বশেষ খতিয়ান ও তার সার্টিফায়েড কপি।
সরকার নির্ধারিত নামজারি ফি প্রায় ১ হাজার ১৭০ টাকা। আবেদন জমা দেওয়ার পর অ্যাসিল্যান্ড অফিস আবেদন যাচাই-বাছাই করে এবং প্রয়োজনে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। সবকিছু সঠিক থাকলে নতুন খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় এবং খাজনার রশিদ প্রদান করা হয়।
খাজনা ও মালিকানা নিশ্চিতকরণ:
নতুন খতিয়ান অনুযায়ী জমির পরিমাণ ও শ্রেণি ভেদে সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকা খাজনা নির্ধারণ করা হয়। নিয়মিত খাজনা পরিশোধ ও নামজারি সম্পন্ন থাকলে জমির মালিকানা আইনগতভাবে নিশ্চিত হয়।ভূমি কর্মকর্তারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমি বিক্রির সময় নামজারি ও হালনাগাদ খাজনার রশিদ থাকা বাধ্যতামূলক। এসব নথি না থাকলে দলিল রেজিস্ট্রি করা যায় না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব নামজারি সম্পন্ন করা উচিত। এতে যেমন মালিকানা সুরক্ষিত থাকে, তেমনি জমি সংক্রান্ত যেকোনো আর্থিক বা আইনি লেনদেন সহজ হয়।