বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

গণভোট কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?যেসব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলবেন ভোটাররা


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও ভোট দেবেন নাগরিকরা। সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে গণভোটের ধারণা, বাংলাদেশের পূর্বের অভিজ্ঞতা ও আসন্ন গণভোটের কাঠামো নিয়ে তুলে ধরা হলো বিস্তারিত।

১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ 

গণভোট কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?যেসব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলবেন ভোটাররা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গণভোট হলো কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব, আইন বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়ার একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এতে ভোটাররা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে সিদ্ধান্ত জানান। সাধারণত ব্যালটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দিনে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সংবিধান সংশোধন বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে গণভোট ব্যবহৃত হয়। সহজভাবে বললে, গণভোট এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে জনগণই সরাসরি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে - সংসদ বা সরকারের মাধ্যমে নয়।

বাংলাদেশে কয়বার গণভোট হয়েছে?
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।

দেশে প্রথম গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে। ওই বছরের ২২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করে ৩০ মে গণভোট, আগস্টে পৌরসভা নির্বাচন এবং ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লক্ষ্যে সামরিক ফরমান বলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের সংশোধন করেন। গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য ২ মে সামরিক আইন আদেশ জারি করেন। ৩০ মে গণভোট হয়।ওই গণভোটে একটি কালো রঙের বক্সে ‘হ্যাঁ’ এবং অপরটিতে ‘না’ লেখা ছিল। এতে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট পড়ে ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। না এর পক্ষে ভোট পড়ে ১ দশমিক ১৩ শতাংশ।

দ্বিতীয় গণভোট হয় ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তখন ক্ষমতায়। এই ভোটের বিষয় ছিল- এরশাদের অনুসৃত নীতি এবং তার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত থাকা নিয়ে। এতে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট পড়ে ৯৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। ‘না’ এর পক্ষে ছিল ৫.৫ ভাগ।

তৃতীয় গণভোট হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ওই গণভোট হয়েছিল সংসদে ওঠা বিল ও তাতে রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেয়া না দেয়া নিয়ে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় যাওয়া নিয়ে। এতে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট পড়ে ৮৪.৩৮ শতাংশ। ‘না’ এর পক্ষে ছিল ১৫.৬২।
সুতরাং দেশের ইতিহাসে হওয়া তিনটি গণভোটেই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।

আসন্ন গণভোট: কী নিয়ে ভোট হবে?
সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ থেকে।একটি প্রশ্নেই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নেওয়া হবে, তবে প্রশ্নটি চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে—
১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
গণভোট কীভাবে দিতে হয়?

একই দিনে ভোট ও গণভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

গণভোট হলো জনগণের সরাসরি মতামত প্রদানের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক মাধ্যম। আসন্ন গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।