বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
ফন্দি

রাজশাহী র‍্যাব-৫ এর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের ষড়যন্ত্র


র‍্যাব-৫ এর ভাবমূর্তি ডুবাতে মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের নীলনকশা
রাজশাহী র‍্যাব-৫ এর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের ষড়যন্ত্র
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান র‍্যাব-৫। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে তারা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বড় বড় সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ নেতাদের আটক এবং দুই হাতে গুলি চালানো রুবেলকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৫ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে রাজশাহী বাসীর নিকট।

কিন্তু এই জনপ্রিয়তাই এখন মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের গায়ে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করে কুখ্যাত মাদক মামলার আসামি লামিয়া আক্তার ও তার স্বামী শাহাজান র‍্যাব-৫ এর এফএস সদস্য এসআই স্বাধীনকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেন। তাদের এ প্রচেষ্টা মূলত র‍্যাব-৫ এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও অভিযানে ভাটা টানার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

পুলিশের নথি ঘেঁটে জানা যায়, লামিয়ার নামে চন্দ্রিমা ও মতিহার থানায় চারটি মাদক মামলা রয়েছে। তার স্বামী শাহাজানের বিরুদ্ধেও রাজশাহীর রাজপাড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

শুধু তাই নয়, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, প্রতারণা, চোরাচালান ও অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িত। বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়ি সবসময়ই মাদকসেবী ও অপরাধীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। এরা এলাকায় ভয়ভীতি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখে। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, এ দম্পতি প্রেমের ফাঁদে ফেলে লোকজনকে ভয়ভীতি, মামলা বা সম্মানহানির হুমকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়।

গোপন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শাহাজানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকায়, যা মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের জন্য কুখ্যাত। সেখান থেকেই তারা মাদক রাজশাহীতে সরবরাহ করে এবং অস্ত্র ব্যবসার সিন্ডিকেট চালায়। এমনকি ৫ আগস্ট পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কেনাবেচায়ও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে তার নিকটতম বন্ধু । অস্ত্র বেচাকেনার একটি ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে এসেছে এবং তা র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিকটও পৌঁছেছে। এছাড়াও লামিয়ার ইয়াবা সেবনের ভিডিও গণমাধ্যমের নিকট সুরক্ষিত রয়েছে।

র‍্যাব-৫ সূত্র জানায়, এসআই স্বাধীন মাত্র ছয় মাস আগে র‍্যাবে যোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত দম্পতির সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ নেই। তবে শাহাজানের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্রের ভিডিও পাওয়ার পর র‍্যাব তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। বিষয়টি আঁচ করেই দম্পতি স্বাধীনকে বিতর্কিত করার নীলনকশা আঁকে। এমনকি লামিয়া তার কাছের মানুষদের নিকট বলেছেন-তিনি স্বাধীনকে দেখে নেবেন। এর কল রেকর্ডও র‍্যাবের হাতে রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে রাজশাহীবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে—যে দম্পতি একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি, তারা কীভাবে এমন দুঃসাহস দেখায় যে র‍্যাব-৫ এর মতো রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না, বরং মাদক ও অস্ত্র সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।