শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছরেও বিচার শেষ হয়নি


সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি কোনো মামলার বিচার। ২০১৩ সালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১ হাজার ১৩৮ শ্রমিকের পরিবার এখনো ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায়। বিচারিক জটিলতায় ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে তদারকি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ 

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছরেও বিচার শেষ হয়নি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন এবং হাজারো মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বিশ্বব্যাপী আলোচিত এই ঘটনার পর একাধিক মামলা দায়ের হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলার চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হয়নি।

হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার মধ্যে প্রধান হত্যা মামলায় ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘদিন বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। বর্তমানে স্থগিতাদেশ না থাকায় পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ পর্যন্ত ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি ফয়সাল মাহমুদ জানান, দীর্ঘ আইনি জটিলতার কারণে বিচার বিলম্বিত হয়েছে। তবে বর্তমানে কার্যক্রম এগোচ্ছে এবং দ্রুত রায়ের পর্যায়ে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

ইমারত নির্মাণ আইনে দায়ের করা মামলায়ও বিচার শুরু হলেও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় তা স্থগিত হয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি পুনরায় বিচারাধীন রয়েছে এবং আংশিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি ইশতিয়াক হোসেন জিকু জানান, কিছু আসামির বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থগিতাদেশের কারণে পুরো মামলাটি এগোতে সময় লাগছে।

এদিকে ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে গত এক বছর ধরে মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়েই আটকে আছে। সর্বশেষ শুনানি না হওয়ায় আগামী ১৭ মে নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

রানা প্লাজা ধসের পর অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা দুটি মামলায় সোহেল রানাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। এই মামলাগুলোও এখনো বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আগামী ৩০ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ১১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যান। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জন আহত হন এবং ৭৮ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। অশনাক্ত ২৯১টি মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সভায় তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে একটি সম্মিলিত তদারকি কমিটি গঠন জরুরি।

ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টারের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, “প্রতিবার দুর্ঘটনায় শ্রমিকরাই প্রাণ হারান, কিন্তু মালিকদের জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।” শ্রমিক নেতারা মনে করেন, রানা প্লাজার মতো ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পোশাক শিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে।