বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ফেব্রুয়ারিতে দুদকের ১৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ


দেশজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের ২৯টি আদেশের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়।

১৭ মার্চ ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ 

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ফেব্রুয়ারিতে দুদকের ১৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে অভিযান ও আইনি কার্যক্রম জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রায় ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে সংস্থাটি।

দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত এক নথিতে জানানো হয়, জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকা।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের মোট ২৯টি আদেশের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ২০টি আদেশের অধীনে ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮৯১ একর জমি, ১৪টি বহুতল ভবন এবং ২৮টি ফ্ল্যাট। এছাড়া ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, দুটি টিনশেড ঘর, একটি খেলার মাঠ, একটি স্কুল এবং দুটি দোকানও জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ছয়টি বিলাসবহুল গাড়ি। এসব সম্পদের প্রদত্ত মূল্য প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৭৯২ টাকা হলেও প্রকৃত বাজারমূল্য আরও বেশি বলে জানিয়েছে দুদক। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পদ সরকারের জিম্মায় থাকবে এবং মালিকরা এগুলো ব্যবহার বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।

এছাড়া আর্থিক খাতেও বড় ধরনের অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। আদালতের ১৫টি আদেশে ১৪৪টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার ৪৬৫ টাকা জমা রয়েছে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার, এফডিআর, বিও হিসাব, প্রাইজবন্ড ও বীমা পলিসিসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদও অবরোধের আওতায় এসেছে।

বিশেষ এই অভিযানে একাধিক ক্রেডিট কার্ড, এসএনডি ও সিডি হিসাবের পাশাপাশি একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডিজিটাল মাধ্যমে দুর্নীতির অর্থ পাচার বা গোপন করার প্রবণতা ঠেকাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সংস্থাটি জানিয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে আগামী মাসগুলোতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।