পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২ মার্চ ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
১৯৭১ সালের ২ মার্চ। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সারা দেশ। ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। সর্বস্তরের মানুষ দলমত নির্বিশেষে রাজপথে নেমে আসে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা জড়ো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।
সেই ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশে তৎকালীন ডাকসু সহ-সভাপতি আ স ম আবদুর রব সর্বপ্রথম উত্তোলন করেন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত সেই গৌরবের পতাকা। ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, আবদুল কুদ্দুস মাখন ও শাহজাহান সিরাজের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেদিন রচিত হয়েছিল স্বাধীনতার এক অনন্য প্রস্তাবনা।
পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের বিকল্প নেই- এ কথা সেদিন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছাত্র-জনতার দৃঢ় অবস্থান বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত করে। পরে ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডিতে তার বাসভবনে একই পতাকা উত্তোলন করেন, যা স্বাধীনতার দাবিকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অবশেষে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সেই সময় পর্যন্ত মানচিত্রখচিত পতাকাই ছিল বাঙালির জাতীয় পতাকা হিসেবে বিবেচিত।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে পতাকার বর্তমান রূপ গৃহীত হয়। সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্ত- এই নকশা করেন শিল্পী কামরুল হাসান।
বর্তমান পতাকায় মানচিত্র বাদ দেওয়া হলেও লাল বৃত্তটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার সূর্যকে প্রতীকায়িত করে। সবুজ রং প্রতীক করে এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। আজ ২ মার্চ- জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতার পতাকা একদিন ছাত্র-জনতার হাতেই প্রথম উড়েছিল। সেই পতাকার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার হোক আরও দৃঢ়।