জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ টাকা
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেবো, যাতে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। পাশাপাশি কৃষকদের কৃষিঋণ সুবিধাসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে।
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
দীর্ঘদিন পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসার অনুভূতি প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, এক সময় প্রতি বছর শীতে তিনি এই অঞ্চলে আসতেন এবং উপজেলা ও গ্রামে গিয়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করতেন। কিন্তু স্বৈরাচার সরকারের কারণে দীর্ঘদিন এখানে আসতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন সময় এসেছে দেশ গঠনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।
নারীদের উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। এতে নারীরা শিক্ষিত হলেও এখনো পুরোপুরি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে নারীদের বড় অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। বিএনপিকে ভোট দিলে নারীরা ও মায়েরা নিরাপদে জীবনযাপন ও কাজকর্ম করতে পারবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারীদের পাশাপাশি কৃষক ভাইদেরও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে। প্রত্যেক কৃষককে একটি করে কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সহজে ঋণ, সরকারি সারসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ঋণ সরকারের পক্ষ থেকে শোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এই অঞ্চল কৃষিপ্রধান। কৃষিকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। পঞ্চগড়ের বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণের কথাও জানান তিনি। এছাড়া এলাকার তরুণদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলে জানান।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকায় অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার রয়েছেন। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে কথা বলে, কিন্তু এতে জনগণের কোনো লাভ হয় না। তাই কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দলের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরছে বিএনপি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে লড়াই করেছে, সেখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিভাজন ছিল না। বাংলাদেশ হাজার বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের দেশ এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব সময় বলতেন- ‘বাংলাদেশই আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা’। তিনি বলেন, বিএনপির সব নেতাকর্মীর শেষ ঠিকানাও এই বাংলাদেশ।
সমাবেশে জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।