বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

সুদানের করদোফানে বাজারে ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ২৮


সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় করদোফান অঞ্চলের সোদারি শহরের আল-সাফিয়া বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন ইমারজেন্সি লয়ার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ রয়েছেন।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ 

সুদানের করদোফানে বাজারে ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ২৮
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় করদোফান অঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ইমারজেন্সি লয়ার্স সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর করদোফান রাজ্যের সোদারি শহরের আল-সাফিয়া বাজারে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হামলাটি চালানো হয়। হামলার সময় বাজারে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে এবং পরিস্থিতি ‘মানবিক বিপর্যয়ে’ রূপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। তাদের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ইমারজেন্সি লয়ার্স জানায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন হামলা চালানো বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবহেলার সামিল। এতে প্রদেশজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংগঠনটি সংঘাতের উভয় পক্ষকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমানে এই অঞ্চলটি  সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান তিন বছরব্যাপী সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশটির বিভিন্ন অংশে আধিপত্য বিস্তার ও গুরুত্বপূর্ণ রুট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

মরুভূমির বাণিজ্যপথের সংযোগস্থলে অবস্থিত সোদারি শহরটি উত্তর করদোফানের রাজধানী  থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এল-ওবেইদ শহরটি কয়েক মাস ধরে আরএসএফ ঘেরাও করার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

করদোফান অঞ্চলজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম করিডর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই করিডর পশ্চিমাঞ্চলের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চল থেকে এল-ওবেইদ হয়ে রাজধানী খারতুম এবং দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, করদোফান অঞ্চলে ড্রোন হামলার পুনরাবৃত্তি সংঘাতকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে এবং বেসামরিক নাগরিকরাই এর সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠছেন।