বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে: কাবুল–কান্দাহারে বিমান হামলা, ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা


সীমান্তে হামলার জেরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার সহ একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর জবাব ‘ব্যাপক ও চূড়ান্ত’।

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ 

আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে: কাবুল–কান্দাহারে বিমান হামলা, ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সীমান্তে সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগান বাহিনীর হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে ইসলামাবাদের দাবি।

এর জবাবে শুক্রবার ভোররাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহারসহ পাকতিয়া প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’।

শুক্রবার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ লেখেন, পাকিস্তান সরাসরি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে “ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে” উল্লেখ করে তিনি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি একই দিনে সকালে এক্সে এক বার্তায় বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ‘ব্যাপক ও চূড়ান্ত’। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এর বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে শুরু হওয়া অভিযানে কাবুল ও কান্দাহার ছাড়াও পাকতিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, অভিযানে অন্তত ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত এবং প্রায় দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। পাশাপাশি আফগান সেনাবাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সীমান্তে সংঘটিত হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানের বিমান হামলায় হতাহতের বিষয়ে কাবুলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।