পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্টের মন্তব্য ঘরে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’- শিরোনামে তিনি দুটি মন্তব্য ও দুটি প্রশ্নের জবাব দেন। সেখানে তাজুল ইসলাম ছাড়াও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম–এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।
সুলতান মাহমুদ দাবি করেন, গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলার আসামি সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হকের স্ত্রী একটি ‘ভারী ব্যাগ’ নিয়ে প্রসিকিউটর তামীমের কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি তিনি তাজুল ইসলামকে জানিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে বকাঝকা করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে ওই এসআইকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) করা হয় এবং বিচারে তাকে খালাস দেওয়া হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত রায়ে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়।
সুলতান মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, চানখাঁরপুলের একটি মামলায় ‘গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়ার ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরও এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে।
রংপুরে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন–কে রাজসাক্ষী করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান–কে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে (রাজসাক্ষী) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আরেক মন্তব্যে সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, শুধু সাবেক আইজিপি নয়, আশুলিয়ার মামলাতেও টাকার বিনিময়ে রাজসাক্ষী করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিন–চারজনের একটি সিন্ডিকেট শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ বাতিলের পর সোমবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তার পাশেই ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কে কী অভিযোগ করছে, সেগুলো তারা আমলে নিচ্ছেন না। ‘এসআই আবজালুলের স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে তামীমের কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেটি আপনাকে জানানো হয়েছিল’—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, এটা আমার জানা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই জাতীয় অভিযোগ আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এগুলো সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। ব্যক্তিগত হিংসা চরিতার্থ করার জন্য যদি কেউ এই ধরনের কথা বলেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।’ পরে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম গণমাধ্যমকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।