পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
জাতীয় সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করা হবে এবং বাহিনীর সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতার সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ’৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ছাত্র-জনতাকে। একই সঙ্গে তিনি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন শহীদকে স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্মম ঘটনা জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা আজও বহমান। ঘটনার ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের কষ্ট, ত্যাগ ও বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা উপলব্ধি করেছেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না। সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার এ দিনগুলোর স্মৃতি অম্লান রাখতে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাহিনীকে সুসংহত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭৮ সালে বাহিনীকে সামরিক কাঠামোয় পুনর্গঠন করে নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস। এ ঘটনার পর জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে সরকার।