বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

১৩ উপজেলায় পরীক্ষামূলক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু ১০ মার্চ


প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে দেশের ১৩টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ 

১৩ উপজেলায় পরীক্ষামূলক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু ১০ মার্চ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুসংগঠিতভাবে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১০ মার্চ কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।

সভায় জানানো হয়, শুরুতে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।

উপকারভোগী নির্বাচন প্রাথমিকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্যের ভিত্তিতে করা হলেও, আর্থিক তথ্যের ঘাটতির কারণে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত- এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা সভায় জানান, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ শতাংশ টার্গেটিং ত্রুটি থাকায় অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক সুবিধা একীভূত করে এ ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।

অর্থ বিভাগের সচিব বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড ও ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি একত্রিত করা যেতে পারে। উপকারভোগী নির্বাচনে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে। পাশাপাশি দ্বৈত সুবিধা রোধে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। বড় পরিবারের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না; তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধা পেতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাগঞ্জ এলাকায়।

উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি বিতরণ করা হবে। নারীরা খানা প্রধান হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং তারা অন্য ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না; তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।