ফুটবল ইতিহাস • প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে সতীর্থ! মেসি-রোনালদোকে নিয়ে স্বপ্ন
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে আফগানিস্তান। টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন হাসান। তাঁর সঙ্গে এবাদত হোসেনের বোলিং তোপে মাত্র ১ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে আফগানরা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ২১৭ রান নিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় দিনেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের তীব্র আক্রমণে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগান ব্যাটিং লাইনআপ।
এই ধসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হাসান মাহমুদ। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ইনিংসে নেমে আসে ধস। প্রথমে ইসমত আলমকে বোল্ড করে উইকেট শিকারের সূচনা করেন তিনি। নিচু হয়ে আসা বলের গতিপথ বুঝতে না পেরে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। এরপর পরপর দুই বলে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার।
হ্যাটট্রিকের দ্বিতীয় শিকার হন কায়েস আহমেদ। হাসানের বলে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে, ফলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিতে হয় তাঁকে। পরের বলেই এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন জিয়া-উর-রেহমান। পরপর তিন বলে তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েন হাসান। তিনজনের মধ্যে শেষ দুই ব্যাটারই কোনো রান করতে পারেননি, অর্থাৎ গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়েছেন তাঁরা।
এই হ্যাটট্রিকের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে বিরল কীর্তিতে নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে লাল বলের ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন দুই স্পিনার ২০০৩ সালে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে সোহাগ গাজী। এবার তাঁদের পাশে জায়গা করে নিলেন হাসান। তবে বিশেষত্ব হলো, বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করা প্রথম পেসার তিনি।
আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও হাসানের এই কীর্তি তাৎপর্যপূর্ণ। চলতি বছরে টেস্টে এটি প্রথম হ্যাটট্রিক, আর টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার টেস্টে হ্যাটট্রিক করার ঘটনাও ম্যাচটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
হাসানের হ্যাটট্রিকের পর আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ২২০ রানে ৮ উইকেট। অর্থাৎ ২১৭ থেকে মাত্র ৩ রান যোগ করলেও এর মধ্যে চারটি উইকেট হারায় তারা। বাংলাদেশের বোলারদের এমন বিধ্বংসী স্পেলে ম্যাচে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত যে আফগানিস্তান আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছিল, তৃতীয় দিনের শুরুতেই তাদের সেই আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগে।
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিতে পারলে আফগানিস্তানকে তুলনামূলক কম রানে আটকে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। আর হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক নিঃসন্দেহে ম্যাচের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।