বেলজিয়ামের ২৩ শট একাই থামালেন ইরান গোলরক্ষক়, গোলশূন্য ড্র বেলজিয়াম-ইরান ম্যাচ
২৪ জুন ২০২৬, ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
সমালোচনার তীব্র চাপের মুখে দাঁড়িয়ে বড় মঞ্চে আবারও ইতিহাস লিখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে এটি তার ১৪৪তম আন্তর্জাতিক গোল। একই সঙ্গে প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অবিস্মরণীয় নজির স্থাপন করলেন তিনি; যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও গোল করতে পেরেছেন পাঁচটি আসরে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-র ম্যাচে শুরু থেকেই উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগকে চেপে ধরে পর্তুগাল। ম্যাচের ২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের আক্রমণ রুখে দেয় উজবেক ডিফেন্ডাররা। এরপর ৫ মিনিটের মাথায় নুনো মেন্দেসের ক্রস থেকে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন সিআরসেভেন।
তবে সেই ভুল শুধরে নিতে মাত্র এক মিনিট সময় নেন রোনালদো। ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো চমৎকার নিচু ক্রসটিকে কাছের পোস্টে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে দারুণ শটে জালের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকেরা মেতে ওঠেন ঐতিহাসিক মুহূর্তের উল্লাসে।
পর্তুগালের আক্রমণের তোড়ে ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের নিচু শটে স্কোর ২-০ করেন তিনি। এরপর ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস ধরে বল নিয়ে ডান পায়ের আড়াআড়ি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১০ম গোল পূর্ণ করে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে দেশের সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতা হন তিনি।
ম্যাচের মাঝে গাভিয়েনের এক অবিশ্বাস্য শটে উজবেকিস্তান ব্যবধান ৩-১ করার উল্লাসে মেতেছিল। তবে ভিএআর যাচাই করে বিল্ডআপের সময় কানসেলোকে ফাউল করার অপরাধে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে রোনালদোর একটি চিপ শট গোললাইন থেকে খুশানোভ ক্লিয়ার করলে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন সিআরসেভেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জোয়াও ফেলিক্সের বুলেট গতির শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৫১ মিনিটে রোনালদোর একটি আক্রমণ উজবেক কিপার রুখে দিলেও পরবর্তীতে তা অফসাইড ঘোষণা করা হয়। এরপর ৫২ ও ৫৪ মিনিটে উজবেকিস্তান দুটি পাল্টা আক্রমণ চালালেও গোলরক্ষক দিওগো কোস্তার দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত হয় তারা। আক্রমণভাগের পাশাপাশি পর্তুগালের ডিফেন্সে এসেও কর্নার ক্লিয়ার করে অবদান রাখেন রোনালদো।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে ফেলিক্সের ব্যাক-হিল গোললাইনে থাকা খুসানভের গায়ে লেগে ড্রপ খায়। শেষ পর্যন্ত উজবেক গোলরক্ষক আব্দুভোখিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল হিসেবে সেটি পর্তুগালকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।
এরপরেও রোনালদো আরও দুবার হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। একবার তার শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে পোস্টের বাইরে যায়, আর দ্বিতীয়বার তার চমৎকার হাফ-ভলি রুখে দেন উজবেক কিপার নেমাতভ। ৭৭ মিনিটে উজবেকিস্তানের শোমুরোদভ একটি সহজ সুযোগ মিস করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা রাফা লেয়াও দুর্দান্ত খেলতে থাকেন। ৮৭ মিনিটে নেলসন সেমেদোর কাটব্যাক প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে লেয়াওয়ের সামনে আসলে, জোরালো শটে পর্তুগালের পঞ্চম গোলটি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।