শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

সবার সহযোগিতা পেলে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী


সবার সহযোগিতা পেলে সরকার দেশের মানুষের ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সৈনিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ দেশকে যেভাবে কল্পনা করে, সরকার ঠিক সেভাবেই পর্যায়ক্রমে দেশটাকে গড়ে তোলার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সবার সহযোগিতা পেলে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "দেশ গঠনে আমাদের সবারই নির্দিষ্ট কর্তব্য আছে। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে সেগুলো পালন করি, তবে অবশ্যই আমাদের কাঙ্ক্ষিত দেশটি গড়ে তুলতে সক্ষম হব।" আজ পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি বহু বছর দেশে থাকতে পারিনি। কেন পারিনি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। কারণ সেসময় দেশে ভালো-মন্দ কী হয়েছে, তা নিয়ে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু এখন আমরা দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।" একই সাথে তিনি দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে এবং অর্পিত দায়িত্ব যেন সবাই সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, সেজন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর শৈশবকালের স্মৃতি রোমন্থন করে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "আমি যখন আসছিলাম, সেসময় হঠাৎ মনে হল আমি প্রায় ৪৫/৪৬ বছর পেছনে চলে গেছি। ১৯৭৫/৭৬ বা ৭৭ সালের কথা হবে। সিএমএইচের গেটটা তখন এত বড় ছিল না।"

সে সময়কার স্টাফ সার্জন মেজর আনোয়ারের কথা, ছোট প্যাথলজি ও সিমেন্টের বেঞ্চের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, "প্রতিদিন বিকাল বেলা বন্ধুদের সঙ্গে ৭/৮টা সাইকেল নিয়ে বের হতাম। সাইকেল চালাতে চালাতে সিগনালের কাছের মসজিদটায় যেতাম। এই এলাকাটা বহু পুরানো। আমরা যেখানে বসে আছি, একসময় এখানে জঙ্গলের মত ছিল। আমার জীবনের বিরাট একটা বড় অংশ, আমার ভালো-মন্দ, কষ্ট-ব্যথা, সুখ-দুঃখের বিশাল স্মৃতি এই পুরো এলকিায় মিশে একাকার আছে।"

ঈদের দিনেও দেশের প্রয়োজনে যেসকল সেনা সদস্য ছুটিতে যেতে পারেননি, তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আপনাদের স্যাক্রিফাইসের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। দেশ এবং জাতি আপনাদের এ আত্মত্যাগকে অবশ্যই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।"

সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক সফলতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, "কয়েক মাস আগে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছিল; দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন ধরানো হয়েছিল। আপনারা সেখান থেকে প্রায় ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করেছিলেন। এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আপনাদের দায়িত্ব পালন ও কল্যাণের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে সরকার পুরোপুরি অবগত রয়েছে।"

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা, সন্তানদের সুন্দর শিক্ষা এবং সুচিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, সরকার সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।