ফুটবল ইতিহাস • প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে সতীর্থ! মেসি-রোনালদোকে নিয়ে স্বপ্ন
১২ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু, এরপর নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার লড়াই। দীর্ঘ দুই দশকের অভিনয় জীবনে নানা চরিত্রে দর্শকের সামনে হাজির হয়েছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। এবার ওয়েব ফিল্ম "প্রিয় প্রাক্তন" এ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
কাজী হায়াৎ পরিচালিত "কাবুলিওয়ালা" সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় দীঘির। ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয়ের আগেই গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। বিজ্ঞাপনের জনপ্রিয়তা তাঁকে দর্শকের কাছে পরিচিত করে তুললেও পরবর্তী সময়ে অভিনয় দিয়েই নিজের অবস্থান তৈরি করেন এই অভিনেত্রী।
শিশুশিল্পী হিসেবে দীঘির অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে "চাচ্চু","দাদী মা","সাজঘর","অবুঝ শিশু","কপাল","বাবা আমার বাবা" ও "এক টাকার বউ"। এসব সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে তিনি দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। "কাবুলিওয়ালা", "এক টাকার বউ" ও "চাচ্চু আমার চাচ্চু" সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিশুশিল্পীর পরিচয় পেছনে ফেলে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন দীঘি। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত "তুমি আছো তুমি নেই" ছিল নায়িকা হিসেবে তাঁর প্রথম সিনেমা। এরপর "টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই", "মুজিব একটি জাতির রূপকার", "শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়" ও "জংলি" সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ওয়েব কনটেন্টেও নিজের অভিনয় প্রতিভা তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। সুমন ধরের পরিচালনায় "চিঠি" ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে এই মাধ্যমে তাঁর অভিষেক হয়।
সম্প্রতি বঙ্গ প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে দীঘি অভিনীত ওয়েব ফিল্ম "প্রিয় প্রাক্তন"। ইফতেখার মাহমুদ ওসিন পরিচালিত এই সিনেমায় "তমা" চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত "ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড" এর ২৫তম আসরে সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা পেয়েছেন দীঘি।
দুই দশকের অভিনয়জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শৈশবের স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন তিনি। দীঘির ভাষ্য, ছোটবেলার সময়টা ছিল তাঁর জন্য ভীষণ বর্ণাঢ্য। তখন অনেকের স্নেহ ও ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেতা মান্নাকে এখনো গভীরভাবে মনে পড়ে তাঁর।
অভিনেত্রী জানান, মায়ের হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও পথচলা শুরু হয়েছিল। ধীরে ধীরে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এ যাত্রায় বাবার সমর্থনও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে চান তিনি।
শিশুশিল্পী হিসেবে সাফল্য থেকে শুরু করে পরিণত বয়সে অভিনয়ের স্বীকৃতি দীঘির এই পথচলায় রয়েছে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়ার গল্প। নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী হিসেবে সামনে আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়াই এখন তাঁর লক্ষ্য।